• সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬
logo

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার এটাই সুযোগ : শিরীন হক

সময় ডট নিউজ ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০৮:০৪ পিএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল এই সংস্কারের সুযোগ এসেছে। আন্দোলনের ফলে একটা দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দেশে বিরাজমান বৈষম্যগুলোকে চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। দেশের সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে কাজ করতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল এই সংস্কারের সুযোগ এসেছে। আন্দোলনের ফলে একটা দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দেশে বিরাজমান বৈষম্যগুলোকে চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। দেশের সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে কাজ করতে হবে। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৫ কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে একশনএইড বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে এসব কথা বলেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক। 

তিনি বলেন, “আমাদের মূল ধারা হবে সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যের নিরসন। এবং নারী-পুরুষের জেন্ডার বৈষম্য কমাতে কাজ করতে হবে। নারীর উন্নয়ন বিকাশে বাধাগুলো নিয়ে বিষয় চিহ্নিত করা। অন্য সকল সংস্কার কমিশনে নারী অধিকারের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে। এটা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। ক্রান্তিকালে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার সর্বোত্তম সুযোগ।”

এসময় অনুষ্ঠানে সমাজে যৌন হয়রানি, সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে বন্ধ এবং জলবায়ু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও সবুজায়ন এবং ক্রীড়াঙ্গনে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিন ক্যাটাগরিতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের তিনজনকে ‘নাসরীন স্মৃতিপদক ২০২৫’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবছর পদক গ্রহণ করেন যথাক্রমে ডনাইপ্রু নেলী, রিনা খাতুন এবং আফরোজা খন্দকার। 

দিবস উদ্‌যাপন আয়োজনে নারীদের সফলগাঁথা প্রদর্শন ও পুরস্কার প্রদানসহ ছিল আলোচনা সেশন। একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় এই আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা। এসময় দেশের সকল ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়নে সামগ্রিক চিত্রের অগ্রগতি হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। এখনও অনেক পিছিয়ে আছেন নারীরা। ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বিভিন্ন স্তরের নারীদের মুখোমুখি হওয়া কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণকে উৎসাহিত করাসহ নারী ও কন্যাশিশুরা সমান সুযোগ পায় এবং উন্নতি করতে পারে সেলক্ষ্যে সকল ক্ষেত্রে পদক্ষেপের গতি বাড়ানোর পরামর্শ আসে আলোচনা থেকে। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নারীদের ‍উল্লেখযোগ্য নেতৃত্বের কথা স্বীকার করে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক বলেন, নারীদের অগ্রগতিতে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটা কারা করছে, কেন করছে সেটা বের করা দরকার। জুলাইয়ের আন্দোলনে মেয়েরাই রোকেয়া হল থেকে সবার আগে বের হলো। কিন্তু পরে এত দ্রুত মেয়েরা সরে গেল কেন? জায়গা কেউ ইচ্ছে করে ছেড়ে দেয়নি। চাপ সৃষ্টি করে জায়গা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।” 

“সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের মতো ‍গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। মেয়েদের পেছনে রাখার প্রবণতা দেখা গেছে। আমরা দেখেছি আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নারীরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে। এতো তাড়াতাড়ি মেয়েদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে আশা করিনি।” তিনি যোগ করেন। 

নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (প্রকল্প-২) আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “জনসংখ্যার বিচারে নারীরা সমান সমান হওয়া সত্ত্বেও নারী বহুক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। এই জায়গাগুলো নিরুপন করে নারী উন্নয়নে কাজ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও দায়বদ্ধতা থেকে সরকারকে আরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।”