সিরিয়ায় সরকার গঠনের কাজ করছে বিদ্রোহীরা
সিরিয়ায় এরই মধ্যে দেশটিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ আল-বশিরকে বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশত্যাগের পর নজর এখন ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে।
সিরিয়ায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের পর রোববার ক্ষমতাচ্যুত হন বাশার। মাত্র ১২ দিনের অভিযানে দামেস্ক দখল করে নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। তাদের নেতৃত্বে ছিল হায়াত তাহরির আল-শামস (এইচটিএস)। সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে এইচটিএস পরিচালিত সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল-বশির।
আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, গতকাল বাশারবিরোধীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাতে দেখা যায়, আল-বশির ও বাশার সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এইচটিএসের প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। এরপর আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে আল-জালালি বলেন, সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছেন তিনি।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক স্যামুয়েল রামানি আল-জাজিরাকে বলেন, বাশারের পতনে এইচটিএসের সঙ্গে যে কয়েকটি গোষ্ঠী ছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ)। ভিন্নমত থাকা এই গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে এইচটিএস কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, এইচটিএস ও এসএনএর মধ্যে ২০২২ সালের আগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে।
এদিকে, সিরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পথরেখা দিয়েছে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করা বাশারবিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশন। জোটের প্রধান হাদি আল বাহরা রয়টার্সকে বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সময় প্রয়োজন। এ ছাড়া ছয় মাসের মধ্যে একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে হবে। ওই সংবিধানে উল্লেখ থাকবে পরবর্তী সরকার সংসদীয়, রাষ্ট্রপতি শাসিত নাকি মিশ্র প্রকৃতির হবে। সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক স্টিফেন জুনেসের মতে, তুরস্ক, ইরান ও সৌদি আরবের মতো অনেক বাহ্যিক শক্তি নতুন সরকারের ওপর প্রভাব ফেলতে চাইবে। তাদের কিন্তু বাশারের পতনে কোনো ভূমিকা ছিল না। তাই সিরিয়ার জনগণের উচিত হবে এমন একটি সরকার গঠন করা, যারা তাদের বিশ্বাস ও স্বার্থের পক্ষে কাজ করবে।
বাশারের পতনের পর অস্থিতিশীলতার মধ্যে সিরিয়ার নানা এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, রোববার রাতে দামেস্কে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনা এবং একটি গবেষণাকেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, এসব স্থাপনা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতো ইরান।