• সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬
logo

বাসরঘরে বরকে রেখে দেনমোহরের টাকা নিয়ে পালালো নববধূ

টিএন২৪ ডেস্ক ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:৪০ পিএম

ফুলশয্যার জন্য হোটেলকক্ষ ভাড়া করে নববধূর জন্য অপেক্ষা করছিলেন বর। অন্যদিকে দেনমোহরের টাকা বাসায় রেখে আসার কথা বলে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন নববধূ।

বাসরঘরে বরকে রেখে দেন মোহরের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে নববধূ। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরীতে। জানা যায়, ফুলশয্যার জন্য হোটেলকক্ষ ভাড়া করে নববধূর জন্য অপেক্ষা করছিলেন বর। অন্যদিকে দেনমোহরের টাকা বাসায় রেখে আসার কথা বলে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন নববধূ। 

শুধু তাই নয়, ঘটনার চার দিন পর নববধূ তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বর গত ২৯ নভেম্বর নগরের চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একজন অফিসারকে এ ঘটনা তদন্ত করতে দিয়েছেন। যতটুকু জানা গেছে, ঘটনা সত্য। এখন দেখা যাক তদন্ত শেষে কী দাঁড়ায়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, দেনমোহরের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া নববধূর নাম তামান্না আক্তার ওরফে ফেন্সি (৩১)। তার বাড়ি নগরের মেহেরচণ্ডী পূর্বপাড়ায়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের মশক শাখার মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। 

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মোস্তাফিজুর রহমান (৫৮)। তিনি রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিকের বাসিন্দা। গ্রামের বাড়ি নওগাঁ। তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবছিলেন তিনি। 

তামান্নার বিবাহবিচ্ছেদ হয় ১৪ বছর আগে। ১৩ বছর বয়সী তার একটি মেয়ে আছে। বছর দু-এক আগে পরিচয়ের পর তামান্নাকে ভালো লেগেছিল মোস্তাফিজুরের। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।

প্রায় ৪ লাখ টাকা খুইয়েছেন দাবি করে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেনমোহরের ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা তিনি নগদ পরিশোধ করেছেন। বাজার করার জন্য ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এমনকি বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্যও টাকা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে চার লাখ টাকার কিছু বেশি নিয়েছেন। দেনমোহরের টাকা নিয়ে বাড়িতে রাখতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তিনি চার দিন অপেক্ষার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘পাঁচ লাখ টাকা দিলে তামান্না আমাকে বিয়ে করবে এমন শর্ত দিয়েছিল। এ টাকায় সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারে দোকান করতে চান। তার প্রস্তাবে আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর গত ২০ নভেম্বর রাতে তামান্না আমাকে মেহেরচণ্ডী এলাকার একটি কাজি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে আমি নগদ ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করি। বিয়ের পর শহরের একটি তিন তারকা হোটেলে ফুলশয্যার কথা ছিল। বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী আছে এই জন্য আমি হোটেলে ফুলশয্যা করতে চেয়েছিলাম। ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে হোটেলে রুম ভাড়া করেছিলাম। তামান্না বাড়ি যাওয়ার পর অসংখ্যবার ফোন দিলেও সে আমার ফোন ধরেনি।’

মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের চার দিন পর তামান্নার পাঠানো তালাকের নোটিশ হাতে পেয়েছেন। তামান্না এই তালাকে সই করেছেন। মোস্তাফিজুর দাবি করেন, এখন তিনি শুনতে পাচ্ছেন যে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তামান্নার ব্যবসা।

এদিকে গণমাধ্যমকে তামান্না আক্তার বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাকে ঝামেলায় ফেলতেই এসব করা হচ্ছে। এতে তিনি অশান্তিতে আছেন।

Tags:   খবর