সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ৭৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক, ১২৫ জন সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৪৮ জন বাশার আল-আসাদের অনুগত যোদ্ধা।
অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এর প্রধান রামি আব্দুল রাহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে সিরিয়ার আলাউইতিদের মূল এলাকা উপকূলীয় আলাউইত অঞ্চলের জাবলেহ, বানিয়াসসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। সিরিয়ায় ১৩ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ঘটছে সেখানে।
নিহত বেসামরিকদের মধ্যে সংখ্যালঘু আলাউইত সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, এসব প্রতিবেদনের সত্যাসত্য তারা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলাউইত সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এমন এলাকাগুলোতে আসাদের প্রতি অনুগত বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত আছে।
বাশার আল-আসাদপন্থিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘাতের জেরে বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ উত্তপ্ত সিরিয়া। উপকূলীয় প্রদেশ লাতাকিয়ার জাবলে শহরের কাছে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যসহ হতাহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচশো। আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে উপকূলের দিকে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপকূলীয় শহরগুলোর রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল হাসান আব্দুল গনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে লাতাকিয়ায় লড়াইরত আসাদের অনুগতদের প্রতি একটি সতর্কবার্তা জারি করেন।
তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খুনি এবং অপরাধীদের রক্ষায় পালিয়ে যাওয়ার ও মৃত্যুর জন্য জোর দিচ্ছে। পছন্দটি স্পষ্ট; আপনার অস্ত্র জমা দিন অথবা অনিবার্য পরিণতির মুখোমুখি হোন।