প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা যেহেতু এমন পরিস্থিতিতে এসেছি, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা মস্ত বড় ইস্যু হয়ে গেল। এটাতে আমরা কে কি পরিমাণে অগ্রসর হলাম, কি করণীয়—এটা এক নম্বর বিবেচ্য বিষয়। আইন-শৃঙ্খলায় আমরা যেন বিফল না হই। কারণ এটাতে আমাদের সমস্ত অর্জন সফলভাবে অর্জিত হতে বা বিফলতায় পর্যবসিত হতে পারে। সেটা নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা হোক। ফিরে যাওয়ার পর যেন এটা বোঝাবুঝির মধ্যে কোনো গলদ না থাকে।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, এখানে কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত সেগুলো সবার খুব ভালো করেই জানা আছে। পুলিশ প্রশাসনের কাজ কি, সিভিল প্রশাসনের কাজ কি। কো-অর্ডিনেশনের কাজ কি। কিন্তু যদি বলি ওর কারণে আমারটা হয় না, এটা বলে আমরা কিন্তু পার পাবো না। যেহেতু জেলার দায়িত্ব সামগ্রিকভাবে একজনের ওপরে। তার সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন করে সব কিছু করতে হয়। কাজেই সে কো-অর্ডিনেশনের কি সমস্যা। নাকি পৃথক পৃথকভাবে হবে সেগুলো। এগুলো পরিষ্কার করে নেওয়া। যাতে কাজ করতে গিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে না যাই।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে কি করতে হবে। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত চেইন অব কমান্ড কীভাবে যাবে। এই নয় যে এটা আমার কাজ ছিল না। আমি এটাতে মনোযোগ দেই নাই। এটা বললে হবে না। আমরা সবাই মিলে সরকার। কাজেই এটা থেকে আমাদের উদ্ধার হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারী-শিশুদের রক্ষা, সংখ্যালঘুদের রক্ষা একটা মস্তবড় দায়িত্ব, কারণ এটার ওপরে সারা দুনিয়া নজর রাখে আমাদের ওপরে। আমরা সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করছি। একটা ছোট্ট ঘটনা সারা দুনিয়ায় বিশাল হয়ে যায়। আমি সেই ভয়ের জন্য বলছি না, আমাদের সরকারের দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের সুরক্ষা বিধান করা। আমি সংখ্যালঘুদেরকেও বলেছি আপনারা সংখ্যালঘু হিসেবে দাবি কইরেন না, দেশের নাগরিক হিসেবে দাবি করুন। সংবিধান আপনাকে অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার আপনাকে সরকারের কাছ থেকে পেতে হবে। এটা আপনাদের পাওনা। আমরা সরকারের টিম আমাদের দায়িত্ব সবার সুরক্ষা নিশ্চয়তা দেওয়া। আমি এর সরকার, তারও সরকার।