• সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬
logo

আম্বানিপুত্রের চিড়িয়াখানায় ২০ হাতির মহাযাত্রা

সময় ডট নিউজ ডেস্ক ২২ জানুয়ারী, ২০২৫ ০৬:৫২ পিএম

পুরো যাত্রাপথটি প্রায় তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার, যা প্যারিস থেকে কায়রোর দূরত্বের সমান। হাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু হাতি, যেগুলো জন্ম থেকেই বন্দি অবস্থায় ছিল এবং কিছু হাতির দেহে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে, যা শিকল পরানোর ফলে হয়েছে।

ভারতের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ২০টি হাতি স্থানান্তরের বৃহৎ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই হাতিগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির ছেলের স্থাপিত বিশাল ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায়, যা একটি বিস্তীর্ণ তেল শোধনাগারের পাশে অবস্থিত।  

হাতিগুলোকে ‘শোষণমূলক কাঠ কাটার শিল্প’ থেকে মুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভান্তারা অ্যানিমাল রেসকিউ সেন্টার। এই সেন্টারটি পরিচালনা করেন অনন্ত আম্বানি, যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান মুকেশ আম্বানির ছেলে।

ভারতের কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্ব-ঘোষিত এই ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন্য প্রাণী উদ্ধারকেন্দ্র’র আকার বেশ বিস্ময়কর। এখানে ৫০টিরও বেশি ভাল্লুক, ১৬০টি বাঘ, ২০০টি সিংহ, ২৫০টি চিতা ও ৯০০টি কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে। চিড়িয়াখানাটি এমন একটি প্রকল্প, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাণী আনা হয়েছে।  

হাতিগুলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিমালয়ের অরুণাচল প্রদেশের কুয়াশাচ্ছন্ন বনাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের গুজরাটের সমতলভূমি জামনগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পুরো যাত্রাপথটি প্রায় তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার, যা প্যারিস থেকে কায়রোর দূরত্বের সমান। হাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু হাতি, যেগুলো জন্ম থেকেই বন্দি অবস্থায় ছিল এবং কিছু হাতির দেহে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে, যা শিকল পরানোর ফলে হয়েছে।  

বিশেষভাবে তৈরি করা ট্রাকে হাতিগুলোকে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেগুলোকে ‘হাতি অ্যাম্বুল্যান্স’ বলা হচ্ছে। এই যাত্রায় দুই শতাধিক কর্মী তাদের সঙ্গে রয়েছে, যার মধ্যে পশু চিকিৎসকরাও রয়েছেন।

যাত্রাপথের কিছু ছবিতে দেখা গেছে, ধীরে চলা ট্রাকের ওপরের দিকে হাতিগুলোর শুঁড় নড়াচড়া করছে।  

ভান্তারার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাতিগুলোকে ‘শৃঙ্খল মুক্ত জীবন’ প্রদান করা হবে এবং তাদের আর কখনোই শ্রমে বাধ্য করা হবে না। এগুলোকে রিলায়েন্স জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সের পাশে রাখা হবে। এই কমপ্লেক্সটিকেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই উদ্যোগের প্রশংসাসূচক পোস্ট যেমন দেখা গেছে, তেমনি অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিপন্ন প্রাণিগুলো বনে মুক্ত না করে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন কেন্দ্রে রাখা হবে।

অরুণাচল ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মায়াপুরের একটি হিন্দু মন্দির থেকে আরো দুটি হাতি এ চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেগুলো মন্দিরের অনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হতো। এই হাতিগুলোর মধ্যে একটি গত বছর তার তত্ত্বাবধায়ককে হত্যা করেছিল। ভান্তারা জানিয়েছে, ‘বন্দি জীবন হাতিদের উল্লেখযোগ্য মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণা দেয়’ এবং তাদের কেন্দ্র হাতিগুলোর ‘মনস্তাত্ত্বিক পুনরুদ্ধার’ নিশ্চিত করবে।  

ভান্তারা জানিয়েছে, চিড়িয়াখানায় প্রাণিদের দেখভালের জন্য প্রায় দুই হাজার ১০০ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।