বাশার আল–আসাদের পতনে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় খুঁটি হারাল ইরান। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সিরিয়া দিয়ে অস্ত্র সরবরাহ করে তেহরান। পাশাপাশি হিজবুল্লাহকে নিয়ে ইরান যে হম্বিতম্বি করে, সেটাও কাছে সিরিয়া থাকার কারণে। কিন্তু বাশার আল–আসাদের পতনে এসব জায়গায় ইরান এখন দুর্বল হয়ে পড়ল। পাশাপাশি ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতেও ইরান আর আগের মতো বড় ভূমিকা রাখতে পারবে না।
বাশার আল-আসাদের পতন রাশিয়ার জন্যও ধাক্কা। কারণ, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার লড়াইকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের লড়াই হিসেবে মনে করত রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্র বাশারকে হারানো বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে রাশিয়ার অবস্থানকে দুর্বল করে তুলবে। এত দিন মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে রাশিয়া কথা বলতে পারলেও এখন আর তা থাকছে না।
অন্যদিকে সিরিয়ার ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের বিজয়ী হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছে তুরস্কের। বাশার আল–আসাদের পতনের মাধ্যমে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষমতা খর্ব করতে পেরেছে আঙ্কারা। পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক করিডরের ওপর এখন নিজেদের আধিপত্য তৈরি করতে পারবে দেশটি। সিরিয়া হয়ে ইউরোপ ও পারস্য উপসাগরকে যুক্তকারী এই ভৌগোলিক করিডরের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে আঙ্কারা।
বাশার আল–আসাদের পতনকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাশারের পতনকে তারা তাদের প্রতিপক্ষ রাশিয়া ও ইরানের গালে বড় এক চপেটাঘাত হিসেবে দেখছে। সিরিয়ায় যুদ্ধের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সিরীয় শরণার্থীদের নিয়ে চাপে আছে। তাদের আশা, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায় এসব শরণার্থী এখন স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফেরত যাবেন।
সিরিয়ায় বাশার আল–আসাদের পতনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ইসরায়েলে। বাশারের পতনের মধ্য দিয়ে ইরান নেতৃত্বাধীন জোটের দুর্বল হয়ে পড়াতে ইসরায়েল বেশ খুশি। এর মাধ্যমে সেখানে ইসরায়েলের কর্তৃত্ব সংহত হবে। তবে অন্যদিকে বাশারের পতনের পর সিরিয়ায় যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সেভাবে মেনে নিতে পারবে না ইসরায়েল। এই বিষয়টি নিয়েও তারা রয়েছে বেশ অস্বস্তিতে।
সিরিয়ায় যারা ক্ষমতায় আসছে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের বড় সমর্থন থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে বাশার আল–আসাদের পতনের পর থেকেই সিরিয়ায় বড় পরিসরে হামলা চালাতে শুরু করেছে ইসরায়েল। সিরিয়ায় কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় এসব সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ না থাকে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাশার আল–আসাদের পতনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় এক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আর এ পরিবর্তনটা কেমন হতে যাচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।