• সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬
logo

আনন্দ মোহন কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় বহিষ্কার ৫

সময় ডট নিউজ ডেস্ক ০১ মার্চ, ২০২৫ ১২:৩৪ এএম

ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজে হলের সিট নবায়ন ইস্যুতে দুই দল শিক্ষার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াসহ আরও ৪ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজে হলের সিট নবায়ন ইস্যুতে দুই দল শিক্ষার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াসহ আরও ৪ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

বহিষ্কৃতরা হলেন- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম জনি, ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন অপু, একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুকুল, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলী আকবর।

কারণ দর্শানো নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন- রুমন, মোস্তাক, তন্ময়, হৃদয় খান, রিয়াদ, রবিন, ফরহাদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শাহিন, হুমায়ুন, পিয়াস, নাঈম, রাফি ও আল আমিনকে। তারা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

এছাড়াও সংঘর্ষের জড়ানোর অভিযোগে কলেজ শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, বাঁধন, দেলোয়ার ও রামিমকে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও শিক্ষার্থীরা সেটি এখনো জানেন না। আশিকুর রহমান ও বাধন নামের যে দুজনের নাম তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে, তারা হলের শিক্ষার্থী না বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের রাজনৈতিক অথবা ছাত্র সংগঠনের পদবি আছে কিনা তা খোলাসা করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

তবে কলেজের একটি সূত্র জানায়, কলেজে ছেলেদের পল্লীকবি জসীম উদ্দীন হল, কবি নজরুল হল, ভাষাসৈনিক আহমেদ সালেক হল নামের তিনটি হল রয়েছে। এসব হলে ৩৭৫টি সিট রয়েছে। এছাড়া সুকান্ত হল নামের আরও একটি হল নির্মাণাধীন। আগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের শেল্টারে ছাত্র নয় এমন শতাধিক ছেলে হলে থেকেছে। এরই মধ্যে অন্তত ৩৫ জন হল ছেড়ে চলে গেছেন। ছাত্র নয় এমন আরও ৭৫ জনের সিট হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে যে চারজনকে সতর্ক করা হয়েছে তাদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহের অন্যতম সমন্বায়ক আশিকুর রহমানের নাম রয়েছে। আশিকুর রহমান ও বাধন নামের দুজন ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসা অন্য সবাই হলে থাকতেন। এর মধ্যে আশিকুর রহমান কলেজে অনার্স শেষ করেছেন। তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হবেন।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে হলের সিট বরাদ্দের নবায়ন ইস্যুতে গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। পরে ময়মনসিংহের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আশিকুর রহমানসহ অন্যরা এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাত ৮টার দিকে কলেজ ও হল বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করে কলেজ প্রশাসন। 

এ ঘটনার পর গত ১৪ জানুয়ারি কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেদিনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান খন্দকার রেজাউর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

কমিটির সদস্যরা হলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রশিদুল আলম, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহীন কবির ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম।

অপরদিকে সংঘর্ষের ঘটনার ৩ দিন পর গত ১৬ জানুয়ারি সকালে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম আবার চালু হয় এবং গত ১০ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকা হলগুলো খুলে দেয় কলেজ প্রশাসন।