অবশেষে বিদ্রোহ প্রত্যাহার করে জাতীয় দলে ফিরতে সম্মত হয়েছেন সাবিনারা। প্রধান কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে চলমান বিদ্রোহ থেকে সরে এসেছেন সাবিনা খাতুনসহ বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ১৮ ফুটবলার।
দুই সপ্তাহ পর বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্রোহের ইতি টেনেছেন সাবিনা খাতুনরা।
গত ৩০ জানুয়ারি ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ তোলেন জাতীয় দলের ১৮ নারী ফুটবলার। সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায়ও ভেঙে পড়েন অনেকে। বাটলারকে কোচ হিসেবে বহাল রাখলে একযোগে অবসরের দেয়াও হয় এসময়।
দেশকে পরপর দুইবার সাফ ট্রফি এনে দেয়া ফুটবলারদের এমন বিদ্রোহে নড়েচড়ে বসেছিল বাফুফেও। জরুরি মিটিং ডেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটিও। তদন্তের প্রতিবেদন কোথাও প্রকাশ করা না হলেও জানা গেছে, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে যেতে পারে সেটা।
খেলোয়াড়দের মধ্যে কোচ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হলেও বাটলার ছিলেন অনড়। বাকি ফুটবলারদের নিয়ে নিয়মিত চালিয়ে গেছেন অনুশীলন কার্যক্রম। এদিকে, বিদ্রোহের দিন যত এগিয়েছে বাফুফেও সেদিকে নজর দেয়া কমিয়েছে। বিদ্রোহী ১৮ ফুটবলারকে বাদ দিয়ে বাকিদের সঙ্গে চুক্তি সেরে নিয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
মূলত এই চুক্তির পর থেকেই বিদ্রোহী ফুটবলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। তবে সহজেই হার মানেননি তারা। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান কিরণের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং শেষে রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিদ্রোহ থেকে সরে আসেন তারা। কিরণ নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এই বিষয়ে।
বাফুফেতে এক সংবাদ সম্মেলনে কিরণ বলেন, আমি নিয়মিত তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে বসার পর আমি যেটা বলতে পারি, মেয়েরা অনুশীলনে ফিরবে।
বিদ্রোহ থেকে সরে দাঁড়ালেও এখন অনুশীলনে ফিরছেন না সাবিনারা। জাতীয় দলের আসন্ন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরেও থাকছেন না তারা। এক দফা ছুটি কাটিয়ে নতুন করে আবার সবকিছু শুরু করবেন তারা, এমনটাই জানিয়েছেন কিরণ।
এ প্রসঙ্গে কিরণ বলেন, ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যাবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। টিমও সেদিন চলে যাবে আরব আমিরাতে। এই সময়ে সিনিয়র মেয়েরাও (১৮ বিদ্রোহী ফুটবলার) চাচ্ছে একটা ছুটিতে যেতে। এটা তাদের জন্য একটা বিরতি বলতে পারেন। এরপর আবার তারা ক্যাম্পে ফিরবে এবং অনুশীলন শুরু করবে।