• সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬
logo

জনপ্রিয় খেলা ব্যাডমিন্টনে আন্তর্জাতিক সাফল্য নেই কেন

আদনান হাদী ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৩:০৩ পিএম

ক্রিকেট ও ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। টেলিভিশনে এবং মিডিয়া কভারেজও তাদের সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে এই দুটি ইভেন্টে। তবে ব্যাডমিন্টন খেলাকে বাংলাদেশে 'শীতকালীন খেলা' বলা হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। নেই তেমন কোনো মিডিয়া কভারেজ ও পৃষ্ঠপোষকতা।

ব্যাডমিন্টন খেলার গায়ে 'শীতকালীন খেলা'র তকমাটা অনেকে আগে থেকেই। শীতের সন্ধ্যায় পাড়া কিংবা মহল্লায়, শহর কিংবা গ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলার চিত্র যেন খুব পরিচিত। ছেলে-বুড়ো, তরুণ-তরুণী সবাই মেতে উঠে জনপ্রিয় এই খেলায়। বিশেষ করে সন্ধ্যে হলে দুপাশে বাঁশের সঙ্গে বোর্ড ঝুলিয়ে লাগানো ডজন খানেক লাইটের উজ্জ্বল আলোতে র‍্যাকেটের শব্দ ছাড়া অনেকের শীতকালই জমে না। তাদের হইহুল্লোড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকা। যেন চারিদিকে এক উৎসবের আমেজ।

ক্রিকেট ও ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। টেলিভিশনে এবং মিডিয়া কভারেজও তাদের সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে এই দুটি ইভেন্টে। তবে ব্যাডমিন্টন খেলাকে বাংলাদেশে 'শীতকালীন খেলা' বলা হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। নেই তেমন কোনো মিডিয়া কভারেজ ও পৃষ্ঠপোষকতা। অনেকেই নিজ উদ্যোগে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে পেশা হিসেবে বাংলাদেশে ব্যাডমিন্টনকে বেছে নেয়ার মত মানুষ হাতে গোনা মাত্র। তবে এতসব প্রতিকূলতার মাঝেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যাডমিন্টনের সাথে যুক্ত আছেন সাবেক জাতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা ও বর্তমানে একজন সফল ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষক এনায়েত উল্লাহ খান। 

বাংলাদেশ প্যারা ব্যাডমিন্টনের প্রধান কোচ এবং প্যারা ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান কথা বলেছেন ট্রেন্ডিং নিউজ টুয়েন্টিফোরের সাথে। তার কাছ থেকেই জানা গেলো ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের ব্যর্থতার মূল কারন এবং আর‍ও অনেক কিছু।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তেমন কোন সাফল্য নেই এর মূল কারন হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে কোন প্র‍্যাকটিস করা হয়না। যে কারনে ভালো কিছু আসেনা। যা হয় স্রেফ লোক দেখানো।

দেখা যায় টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে প্র‍্যাকটিস করা হয়। এত কম সময়ের প্র‍্যাকটিসে ভালো কিছু আসেনা। টাকা খরচ হয়, পরিশ্রম হয় কিন্তু এভাবে ভালো করা সহজ নয়।

"সাফল্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। প্লেয়ারকে নিরবিচ্ছিন্ন সাধনা করতে হবে। লাইফ স্টাইলে, খাওয়া দাওয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) এর আমন্ত্রণে ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক গেমসে প্রথম ক্রীড়াবিদ পাঠানোর পর থেকে বাংলাদেশের কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। যেন অলিম্পিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণই মুখ্য। লজ্জাজনক রেকর্ডও আছে।

১৮ কোটির এই বাংলাদেশকে প্রায়শই বলা হয়ে থাকে জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ অন্যতম বড় দেশ যারা কখনও অলিম্পিকে কোনো পদক জেতেনি।

অন্যান্য খেলার তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাডমিন্টন অনেক জনপ্রিয় এবং দর্শকপ্রিয়। বিপুল দর্শক প্রাপ্তি সত্ত্বেও তেমন মিডিয়ার নজরে আসেনা। তেমন কোনো বড় তারকাও পাওয়া যাচ্ছেনা। যে কারনে অলিম্পিকসহ বড় আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের সাফল্য শুন্যের কোটায়। 

অতীতে অনেক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শাটলাররা নিজেদের খরচে খেলেছেন। প্রশিক্ষণ ছাড়াই জাতীয় দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয় এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যাননি কোনো কোচ এবং ম্যানেজারও এমন নজিরও আছে। বাংলাদেশর ব্যাডমিন্টনে সাফল্য বলতে ২০১০ ও ২০১৬ এসএ গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলা দলগত বিভাগের ব্রোঞ্জ জয়।

পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেও কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস এমনকি সাফ গেমসের মতো উচ্চ-মর্যাদার কোনো টুর্নামেন্টে কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারছেনা বাংলাদেশ। মূলত অর্থের কারনেই ভালমানের ব্যাডমিন্টন তারকা তৈরি করা যাচ্ছেনা।

ব্যাডমিন্টন খেলাটা এখনো সেভাবে এইদেশে পেশাদার হয়ে উঠতে পারেনি মুলত এটা অনেক কস্টের খেলা। তাছাড়া আউটপুট অনেক কম। ক্রিকেটকে অনেকেই পেশা হসেবে নিতে পারে কারণ তাদের বেতন কাঠামো ভালো। বেশিরভাগ ব্যাডমিন্টন খেলোয়ারকে খ্যাপের উপর নির্ভর করতে হয়। শুধুমাত্র টপ পজিশনে গেলেই ক্লাব থেকে হয়তো কিছু টাকা সহযোগিতা পাওয়া যায় ক্লাব থেকে। বাকিদের অবস্থা আরও খারাপ থাকে।

এখন যারা কর্মকর্তা আছে ব্যাডমিন্টনে তাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তারা আসলে কেউ খেলোয়াড় ছিলোনা। কিভাবে প্লেয়াররা এক্সপোজ হবে অথবা ভালো পর্যায়ে যাবে সেদিকে তাদের সুনজর নেই। নেই কোন পরিকল্পনা। কোনো ভালো সংগঠক নেই। যারা খেলোয়াড়দের ভালো চায় এমন লোক না আসলে উন্নতি সম্ভব না।

দেশের সম্ভাবনাময় খেলা ব্যাডমিন্টন। অন্যান্য খেলার মত ব্যাডমিন্টনেও কিছুরই অভাব রয়েছে এবং ক্রীড়াবিদরা প্রায়ই স্পনসরশিপ ছাড়াই বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। তবে পর্যাপ্ত অর্থের যোগান দিয়ে এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যদি খেলোয়াড়দের ঠিকমত প্রশিক্ষন দেওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাডমিন্টনেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য লাভ করা সম্ভব। তৈরি হবে আন্তর্জাতিক তারকা।

Tags:   খেলা